কক্সবাজারের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় ডাকাত ও অপহরণকারী চক্র দমনে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। রামু ও ঈদগাঁও থানার অন্তর্গত দুর্গম অঞ্চলে এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে সন্দেহভাজন আস্তানাগুলো শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান। পুলিশের একটি চৌকস দল সরাসরি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে নজরদারি জোরদার করে। দুর্গম পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও মানুষের চলাচলের অনুপযোগী এলাকাগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রামু ও ঈদগাঁও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চিরুনি অভিযানের উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক জটিলতার কারণে আগে অপরাধীদের অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন ছিল। তবে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন অনেক গভীর ও দুর্গম এলাকাও সহজেই নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান শুধু তাৎক্ষণিক অপরাধ দমনেই নয়, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়িয়ে নিয়মিত ও আকস্মিক অভিযান চালানো হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হামিদুল হক হামিদ, স্থানীয় সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় অপরাধচক্রের তৎপরতায় আতঙ্কিত মানুষ পুলিশের এমন আধুনিক ও সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে দ্রুতই ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
তানিম হোসেন ইমন
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি