বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
🏠︎ » সারাদেশ » স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের নতুন পরিকল্পনা

স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের নতুন পরিকল্পনা

জ্বালানি সংকট, যানজট এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কৌশল নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে ক্লাস চালুর প্রস্তাব এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, রমজানসহ বিভিন্ন কারণে যে পাঠদানের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে ইতোমধ্যে শনিবারও স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট ও নগরজীবনের চাপ বিবেচনায় নতুন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি সাম্প্রতিক জরিপে প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেও পাঠ নিতে পারবে, আবার সরাসরি ক্লাসের সুবিধাও পাবে।

তবে পুরোপুরি অনলাইন শিক্ষার দিকে না যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ভার্চুয়াল নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি চালুর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এই পদ্ধতি চালুর কথা ভাবা হলেও কলেজ পর্যায়েও তা প্রয়োগ করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আলাদা ব্যবস্থাপনা বজায় থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে, নগর এলাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, মেট্রোরেল ব্যবহার এবং সৌরশক্তিচালিত পরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে এই উদ্যোগ। এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ