বুধবার, ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
🏠︎ » শিক্ষা » শিক্ষক ধর্মঘরে, অভিভাবক নিয়েছেন পরীক্ষার দায়িত্ব

শিক্ষক ধর্মঘরে, অভিভাবক নিয়েছেন পরীক্ষার দায়িত্ব

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকারি শিক্ষকরা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন ও পরীক্ষা বর্জন করায় অভিভাবকরা সরাসরি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বার্ষিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও পাবনা সহ বিভিন্ন জেলার ঘটনা এটিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

রাজবাড়ীর টাউন মক্তব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শাখায় অভিভাবকদের চাপ ও জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বের পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রধান শিক্ষকের আহ্বানে অভিভাবকরা কক্ষ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাবনার পৈলানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে কর্মচারীর সাহায্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহমত থাকতে পারে, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা স্থগিত
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চালাচ্ছেন। ফলে দেশের ৭২১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

মাধ্যমিক শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো:

  • সহকারী শিক্ষক পদকে ৯ম গ্রেডে BCS (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা
  • বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি বাস্তবায়ন
  • বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান
  • ২০১৫ সালের আগের ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বেতন সুবিধা পুনর্বহাল

প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পরীক্ষা ব্যাহত
প্রাথমিক শিক্ষকরা তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনরত। এতে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। তবে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা পরীক্ষা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করছেন। তারা বলেছেন, “বাচ্চাদের জিম্মি করে কর্মসূচি নেব না। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে কর্মসূচি শুরু করব।”

সরকারের কঠোর অবস্থান
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে, বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নিতে হবে। শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন
অভিভাবকরা বলছেন, “শিক্ষকদের দাবি থাকতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীর ক্ষতি করছে।” জাতি গড়ার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা দায়বদ্ধ না হলে সারাবছর প্রস্তুতি নেওয়া শিশুরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়বে।

শিক্ষা প্রশাসনও শিক্ষকদের দাবির গুরুত্ব বোঝার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সতর্ক। এই পরিস্থিতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্ব বহন করছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ