কুষ্টিয়া শহর থেকে একটু দূরে আলামপুর ইউনিয়নের দিকে এগুলেই চোখে পড়ে খোলা মাঠ আর সোনালি ধানখেতের মনোরম দৃশ্য। শহরের কোলাহল ছেড়ে এই রাস্তায় পা রাখলেই মনে হয় প্রকৃতির কাছে ফিরে এসেছি। ঠিক সেই শান্ত নির্জন পথেই রয়েছে পথিকের স্বস্তির এক ছোট্ট আশ্রয়—সাতটি বেলগাছ আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টিউবওয়েল।
সকালের দিকে মোটরসাইকেলে করে আলামপুরের পথে বের হয় দুটি বন্ধু। দহকুলা গ্রাম পেরোতেই চারপাশে বিস্তীর্ণ ধানখেত। কৃষকেরা ব্যস্ত ফসল কাটায়। পথের মাঝেই হঠাৎ মোবাইলে আসে ভূমিকম্পের খবর, কিন্তু নির্জন মাঠে কিছুই টের পাওয়া যায় না। এমন সময় সামনে দেখা যায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি বেলগাছ; নিচে একটি টিউবওয়েল, পাশে ঝুলছে রাবারের দড়িতে বাঁধা ছোট প্লাস্টিকের কাপ।
এ যেন প্রকৃতির মাঝে মানবিক ব্যবস্থার এক ছোট্ট ছোঁয়া। টিউবওয়েল থেকে পানি তুলে পথিকের তৃষ্ণা মিটতে না মিটতেই রাস্তা ধরে আসেন এক ভ্যানচালক। তিনিও নামেন সেই বেলগাছের ছায়ায়, তুলে নেন ঠান্ডা পানি। কথায় কথায় জানান—দীর্ঘ এই সড়কের পাশে বড় গাছ বলতে প্রায় কিছুই নেই। এমন সময় এই সাতটি বেলগাছই পথিককে দেয় ছায়া আর টিউবওয়েল দেয় প্রাণের পানি।
স্থানীয়দের জানা মতে, প্রায় দুই বছর আগে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা কৃষক ও পথচারীদের সুবিধার কথা ভেবে টিউবওয়েলটি বসান। দূরের মাঠে আরও কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও, দীর্ঘ এই পথের পাশে এটি ছাড়া নেই। তাই প্রতিদিন বহু মানুষই এখানে এসে খানিকটা স্বস্তি নিয়ে থামেন।
বেলগাছগুলোর ডালে সারাক্ষণ উড়াউড়ি করে পাখিরা। মাঝে মাঝে তারা উঠে যায় আকাশে, আবার ফিরে আসে। টিউবওয়েল, গাছ আর খোলা মাঠ—সব মিলিয়ে এটি যেন পথের ক্লান্ত পথিকদের জন্য ছোট্ট বিশ্রামস্থল।
মিনিট কয়েক দাঁড়িয়ে থাকলেও জায়গাটি মনে গেঁথে যায়। সামনে নাজিরপুরের রাস্তা, আর পেছনে রেখে যাওয়া সাত বেলগাছ ও টিউবওয়েলটিই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—পথের ধারে এমন ছোট্ট ব্যবস্থাও অনেক মানুষের তৃষ্ণা মেটায়, বিরতি এনে দেয় ক্লান্ত যাত্রায়