🏠︎ » বাংলাদেশ » চেতনার অগ্নিশিখায় শুরু স্বাধীনতার মার্চ

চেতনার অগ্নিশিখায় শুরু স্বাধীনতার মার্চ

শুরু হলো মহান স্বাধীনতার মাস। এই মাস মনে করিয়ে দেয় একটি জাতির অবিচল সংকল্প, আত্মমর্যাদা আর অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের কথা। অধিকারহীন, বঞ্চিত বাঙালি একসময় বুঝে গিয়েছিল স্বাধীনতা ছাড়া মুক্তি নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে জনতার হৃদয়ে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায় পাওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা পরিস্থিতিকে বিস্ফোরণমুখী করে তোলে। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত মুক্তির ডাক জাতিকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়, ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে স্বাধীনতার শপথ।

এরপর আসে ২৫ মার্চের কালরাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট এর নামে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ঘুমন্ত শহর পরিণত হয় লাশের উপত্যকায়। সেই বিভীষিকাময় রাতের পর আর ফেরার পথ থাকেনি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ।

গ্রাম-শহর সবখানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক যার যা ছিল, তাই নিয়ে নেমে পড়ে যুদ্ধে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান ও লাখো মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। লাল সবুজের পতাকা শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রতীক নয়, এটি আত্মত্যাগে রঞ্জিত এক অমর ইতিহাস।

স্বাধীনতার প্রতিটি ভোর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এই দেশ এসেছে এক মৃত্যু উপত্যকা পাড়ি দিয়ে। তাই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা, ন্যায় ও মানবিকতার পথে অটল থাকা এটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।

মার্চ তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি মাস নয়,এটি জাতির আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণ। এই মাস আমাদের শিখিয়ে দেয় অন্যায় ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনা। শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় আমরা স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, এবং অঙ্গীকার করি স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় আমরা সদা প্রস্তুত।

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ