বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ বিভাগের প্রধান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছেন এম নাজমুল ইসলাম। ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও বোর্ডের সর্বশেষ সভায় পরিচালকদের সম্মতিতে তাকে আবারও সেই পদে বহাল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করা হয়। বিসিবির শৃঙ্খলা বিভাগ তার লিখিত ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক বলে মত দেওয়ায়, বোর্ড তাকে পুনরায় অর্থ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়।এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বোর্ডের পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল, তার যথাযথ জবাব দিয়েছেন এম নাজমুল ইসলাম। শৃঙ্খলা বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখেনি।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত কোনো পরিচালককে বোর্ড সরাসরি অপসারণ করতে পারে না। চার বছরের জন্য নির্বাচিত পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে—যেমন মৃত্যু, মানসিক অক্ষমতা, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, দেউলিয়া ঘোষণা অথবা পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকা। নাজমুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব শর্তের কোনোটিই প্রযোজ্য না হওয়ায় তাকে পদচ্যুত করার আইনগত সুযোগ ছিল না।এর আগে ক্রিকেটারদের নিয়ে দেওয়া কিছু মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব তার পদত্যাগের দাবি তোলে এবং বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একদিন বিপিএলের ম্যাচও বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
সবকিছু মিলিয়ে, এম নাজমুল ইসলামের দায়িত্বে ফেরা বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামো, গঠনতন্ত্র এবং শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামনে এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।