জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা পুরো নির্বাচনী পরিবেশে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ৩০০ আসনের প্রার্থীরাই নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
দোয়া মাহফিলে কড়া বক্তব্য
রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিনই একজন প্রার্থীকে গুলিবিদ্ধ করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। তার ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পিত প্যাকেজ কর্মসূচির অংশ, যার ধারাবাহিকতা আরও থাকতে পারে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কী ঘটেছিল ওসমান হাদির সঙ্গে
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। পরদিন তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
‘জুলাই যোদ্ধারাই কি পরবর্তী লক্ষ্য?’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ওসমান হাদির পর আর কারা টার্গেটে আছেন—এ প্রশ্নে পুরো জাতি উদ্বিগ্ন। তিনি অভিযোগ করেন, একশ্রেণির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মতপ্রকাশকারীর বক্তব্যে এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তিকে দমন করার পথ তৈরি হয়।
তার মতে, এ অবস্থায় শুধু একটি দলের নয়, সব আসনের প্রার্থীরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থীর ওপর গুলি চালানোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলা লজ্জাজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকায়, এই ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার—উভয়েরই দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে—এই সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে জনগণের কাছে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রসঙ্গ
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রয়োজনে বিদেশে পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। তার দাবি, জাতিসংঘও এই হত্যাকাণ্ড তদন্তে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির প্রাণহানি নয়—এটি পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।