কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার এস এস দারুল খাঈর মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৮) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুল হকের বিরুদ্ধে। এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক সংগঠন Online Communication Society এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি অনুষ্ঠান দেখতে গেলে শিশুটি মাদ্রাসায় একা থেকে যায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুল হক জোরপূর্বক শিশুটিকে বলাৎকার করেন এবং পরে তাকে আটকে রাখেন। পরদিন বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসে।
ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বড় ভাই বলেন, “আমার ভাই বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে আমাদের সব জানায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম সুজাও এই ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Online Communication Society-র চেয়ারম্যান এ বি এম সিরাজুল হক সাজিদ বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের নির্মম নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।