বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
🏠︎ » লাইফস্টাইল » শুধু ওজন কমানো নয়, ডায়াবেটিস থেকেও রক্ষা করতে পারে ওটস

শুধু ওজন কমানো নয়, ডায়াবেটিস থেকেও রক্ষা করতে পারে ওটস

ওটস এখন বাংলাদেশে একটি পরিচিত নাম। শহরের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ থেকে শুরু করে ডায়েটে থাকা তরুণ প্রজন্ম — সবার কাছেই এই শস্যজাতীয় খাবারটির কদর বাড়ছে। তবে অনেকের ধারণা, এটি কেবল ওজন কমানোর খাবার। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয় — বরং ওটসের গুণাগুণ আরও অনেক বিস্তৃত।

বিশেষজ্ঞ মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেহানা বেগম বলেন, “ওটস পুষ্টিগুণে ভরপুর ও ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, আয়রন, ভিটামিন, প্রোটিন ও অ্যাভিন্যানথ্রামাইডসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপাদান। এটি ভাতের বিকল্প হিসেবে সকাল, দুপুর বা রাতের প্রধান খাবার হতে পারে।”

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওটস কেন কার্যকর?

ওটস কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। এ ছাড়া লো ক্যালোরি ও সুগার ফ্রি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতাও কমায়। বিশেষজ্ঞরা তাই ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় ওটস রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

💡 জানেন কি? ওটসে থাকা বেটা-গ্লুকোন পাকস্থলীতে পেপটাইড ওয়াইওয়াই নামক হরমোন নিঃসরণ ঘটায়, যা ক্ষুধাভাব কমায় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।

ওটসের আরও যত উপকারিতা

  • ❤️হার্ট সুস্থ রাখে: ওটসের পুষ্টি উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
  • ⚖️ওজন নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • 🧠মন ও ঘুম ভালো রাখে: ওটস খেলে সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা দুশ্চিন্তা কমায় এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
  • 🛡️রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ওটস একটি প্রিবায়োটিক খাবার। এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টির জোগান দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • 🎗️ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: ওটসে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
  • 🚽কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: কলা, আপেল, খেজুর বা বাদামের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কীভাবে খাবেন

  • দুধে ভিজিয়ে ফল মিশিয়ে খান — চিনি দেবেন না
  • দুধ না খেলে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন
  • প্যানকেক, স্মুদি বা স্যুপ বানিয়েও খাওয়া যায়
  • সবজি দিয়ে ফ্রাইড রাইসের মতো রান্না করে খান

আরও পড়ুন

সর্বশেষ