ইসলামাবাদ, ১২ এপ্রিল ২০২৬: দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। আজ রোববার সকালে ইসলামাবাদের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আলোচনার মূল বিষয় ও ব্যর্থতার কারণ
জে ডি ভ্যান্স জানান, ঐতিহাসিক এই শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানের কাছে তুলে ধরেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি ছিল—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার এবং ভবিষ্যতে সেই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে একটি শক্তিশালী ও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে তেহরান এই শর্তগুলোতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে ভ্যান্স বলেন, তাদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে তারা যাতে পুনরায় পরমাণু অস্ত্রের দিকে না ঝুঁকে, সেজন্য যে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন ছিল, তা এই আলোচনায় পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের ভূমিকা ও কৃতজ্ঞতা
শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
“আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা পাকিস্তানের কারণে নয়। পাকিস্তান অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দুই দেশের দূরত্ব কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।”
ইরানের পাল্টা বক্তব্য
এদিকে, আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো ছিল “অতিরিক্ত এবং বেআইনি”। বাগাই স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বৈধ অধিকার ও জাতীয় স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল আলোচনার সাফল্য আসা সম্ভব।