নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
পর্যটন নগরীর অন্যতম জনপ্রিয় ভোজনালয় ‘শালিক রেস্টুরেন্ট’ ঘিরে দানা বাঁধছে নানা বিতর্ক ও গুঞ্জন। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের একজন সাবেক ম্যানেজারের উত্থাপিত কিছু গুরুতর অভিযোগ এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর রুটি-রুজির আধার এই প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা।
অভিযোগের নেপথ্যে:
বিগত ৪ বছর ধরে শালিক রেস্টুরেন্টে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর নিষ্ঠা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। কখনো ১৬ ঘণ্টা, আবার কখনো ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত একটানা ডিউটি করেছেন। কিন্তু এত ত্যাগের পর তাকে কোনো স্থায়ী সমাধান না দিয়ে বরং কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মুজিবুর রহমান স্বাধীন। অভিযোগ রয়েছে, জিএম হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য কায়েম করেন। মালিক নাছির উদ্দীন বাচ্চুর সাথে পূর্ব সখ্যতা ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের পুরনো ও অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
আকস্মিক জীবনযাত্রা পরিবর্তন ও আর্থিক প্রশ্ন:
সাবেক সেই ম্যানেজারের বক্তব্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, যে ব্যক্তি একসময় মাত্র ৩০ হাজার টাকার সাধারণ মোটরসাইকেল চালাতেন, জিএম হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ‘রয়্যাল এনফিল্ড’ বাইক ব্যবহার করছেন। একজন বেতনভুক্ত কর্মকর্তার এত অল্প সময়ে এমন বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নানা গুঞ্জন চলছে।
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও মারধরের গুঞ্জন:
শুধু আর্থিক বা প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, জিএম-এর বিরুদ্ধে অসহায় নারী কর্মীদের সুযোগ নেওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগও লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, যারা তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হননি, তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শোনা যাচ্ছে, মালিক নাছির উদ্দীন বাচ্চুকে কথিত অর্থ ধারের জের ধরে মারধরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটেছে, যা একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের সুনামের জন্য বড় হুমকি।
৪০০ পরিবারের ভবিষ্যৎ:
সাবেক এই ম্যানেজারের মতে, শালিক রেস্টুরেন্ট কেবল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ৪০০টি পরিবারের জীবিকার উৎস। বারবার নেতিবাচক আলোচনায় আসার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি:
প্রতিবেদনটি শেষ করা হয়েছে একটি জোরালো দাবির মাধ্যমে—সত্যের জয় হোক। সাবেক এই কর্মকর্তা চান, কোনো ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে যেন শালিকের মতো একটি সাজানো প্রতিষ্ঠান নষ্ট না হয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মালিক বা জিএম, যারই অপরাধ প্রমাণিত হোক না কেন, তার বিচার হওয়া উচিত। ৪০০ পরিবারের আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি যেন তার পুরনো ঐতিহ্য ও সুনাম বজায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, এটাই এখন সর্বস্তরের প্রত্যাশা।