কক্সবাজারের রামু উপজেলার সীমান্তবর্তী গর্জনিয়া বাজারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ কোটি টাকায় ইজারা হওয়া এই বাজারের প্রকৃত আয়, ব্যয় এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পাহাড়ঘেরা এই বাজারটি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তঘেঁষা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে বাজারটির ইজারা মূল্য ছিল প্রায় আড়াই কোটি টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে ২৬ কোটিতে পৌঁছানোয় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বাজারটি।
২০২৫ সালের উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তৌহিদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি স্থানীয় যুবদলের একজন নেতা। সরকারি হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার দর, ভ্যাট-করসহ মোট ইজারা মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
তবে ইজারা কার্যক্রম শুরুর পরই আইনি জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে প্রশাসন সরাসরি খাস কালেকশনের সিদ্ধান্ত নেয়। জনবল সংকটের কারণে “গর্জনিয়া বাজার উন্নয়ন সমিতি” নামে একটি স্থানীয় কমিটিকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, এক বছরের বেশি সময় পার হলেও বাজার থেকে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সমিতির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বরং তথ্য জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারটিতে প্রতিদিনই অতিরিক্ত টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বাইরের ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ইজারা আদায়ের নামে অনিয়ম চলছে এবং প্রকৃত রাজস্বের হিসাব গোপন রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এই বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাই গরু বেচাকেনা ও মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। ফলে বাজারটির আর্থিক লেনদেনও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।
বর্তমানে স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন ২৬ কোটি টাকার ইজারা মূল্যের বিপরীতে আসলে কত টাকা আদায় হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তানিম হোসেন ইমন কক্সবাজার