🏠︎ » লাইফস্টাইল » গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: মায়ের পাশাপাশি সন্তানেরও বাড়ে ঝুঁকি

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: মায়ের পাশাপাশি সন্তানেরও বাড়ে ঝুঁকি

ডায়াবেটিস সচেতনতা মাস উপলক্ষে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসকরা জানালেন—গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এখন মায়ের পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর জন্যও বড় হুমকি। কংগ্রেসিয়া ও প্রথম আলোর এই আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের বাস্তব ঝুঁকি ও প্রতিরোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কেন বাড়ছে?

চিকিৎসকদের মতে, দেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে—

  • বয়স বেশি হলে গর্ভধারণ
  • হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তন
  • স্থূলতা, অনিয়মিত জীবনযাপন
  • বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার মাধ্যমে দেরিতে মাতৃত্ব গ্রহণ
  • ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস প্রবণতা বাড়া

গবেষণা বলছে, প্রতি তিন থেকে চারজনে একজন মা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কখন বুঝবেন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছে?

বিশেষজ্ঞরা জানান, নিচের দুটি মানদণ্ডেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়—

  • খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজ ৫.১ mmol/L-এর বেশি
  • ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ গ্রহণের দুই ঘণ্টা পর ৮.৫ mmol/L-এর বেশি

যদিও সাধারণ ডায়াবেটিস নির্ণয়ের মানদণ্ড থেকে এটি ভিন্ন।

মায়ের জন্য কী কী ঝুঁকি থাকে?

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে গর্ভবতী নারীরা বিভিন্ন মারাত্মক জটিলতায় পড়তে পারেন, যেমন—

  • গর্ভপাত
  • উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি–এক্লাম্পশিয়া
  • খিঁচুনি ও এক্লাম্পশিয়া
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
  • সময়ের আগে সন্তানের জন্ম
  • মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি

বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর বড় তিনটি কারণের মধ্যে রক্তক্ষরণএক্লাম্পশিয়া অন্যতম—যার পেছনে অনেক সময়ই অপরিকল্পিত গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দায়ী।

গর্ভস্থ শিশুর জন্য ঝুঁকি আরও ভয়াবহ

ডায়াবেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না হলে গর্ভস্থ শিশুর ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হলো—

  • মৃত সন্তান প্রসব
  • বিকলাঙ্গতা
  • কম ওজন নিয়ে জন্ম
  • অপরিণত অবস্থায় জন্ম
  • জন্মের পরপরই শিশুর শ্বাসকষ্ট বা স্বাস্থ্য জটিলতা

এমনকি কোনো জটিলতা না দেখা গেলেও ভবিষ্যতে শিশুটির কম বয়সে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি

নিয়ন্ত্রণ কেন এত জরুরি?

বিশেষজ্ঞরা বলেন—”গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু একজন মাকে বাঁচানো নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখা।”
গর্ভাবস্থায় ব্লাড সুগার সামান্য বাড়লেও তা ভবিষ্যতের একটি নতুন ডায়াবেটিক প্রজন্ম তৈরি করতে পারে।

সমাধান: সচেতনতা, সঠিক পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসা

  • নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা ওষুধ
  • খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রিত কার্বোহাইড্রেট
  • হালকা ব্যায়াম
  • গর্ভকাল থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ

মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু ও ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ