🏠︎ » বাংলাদেশ » কৃষি » কৃষকদের ভর্তুকি দ্রুত দিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: ডেপুটি স্পিকার

কৃষকদের ভর্তুকি দ্রুত দিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বন্যায় গত কয়েক বছরে এত ক্ষতি হয়নি। এই ক্ষতি পোষাবার মতো না। আমি নিজেও কৃষকের সন্তান। কৃষকদের কষ্টটা আমি উপলব্ধি করতে পারছি।

সাম্প্রতিক বন্যায় কলমাকান্দার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুরবস্থা পরিদর্শন শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস যারা অতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার আছেন, তাদেরকে একটা অনুদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা ও চাল দেয়া হবে। পাশাপাশি আমরা স্বল্পকালীন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থাৎ এই ধরনের অকাল বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার আছেন, উনি ও আমরা বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছি অর্থাৎ আগামীতে যেন এই ধরনের অকাল বন্যায় আমাদের কৃষকদের ফসলহানি না ঘটে, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

এসময় তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে আমাদের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ডিজি সাহেব এসেছিলেন। তিনি এসে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন, পাশাপাশি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার যিনি তিনি এসেছিলেন, এসে এই এলাকা এইরকম পানি থেকে বা অকাল বন্যা থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায় সেজন্য চেষ্টা চলছে। আমরা বাঁধ নির্মাণ করব, প্রয়োজনে যা যা দরকার পর্যায়ক্রমে সেটা নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, সোমেশ্বরী নদী শাসনের জন্য ইতোমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সার্ভে করে তার একটা রিপোর্ট পেশ করছে। কোনো কিছুই হয়তোবা রাতারাতি সম্ভব হবে না। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে এবং স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাও আছে। সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আশা করছি, দুর্ভোগ আর থাকবে না।

প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কায়সার কামাল বলেন, আমি যতটুকু জানতে পেরেছিলাম সেই তালিকাটা তাড়াহুড়া করে করা হয়েছিল। যারা তালিকা করছেন তাদের পাশাপাশি যারা নাম লেখাচ্ছেন তাদেরও কিন্তু দায়বদ্ধতাটা আছে। যদি একজন প্রকৃত কৃষক জানেন, তার চেয়ে অভাবী আরেকজন কৃষক আছে তাকে বাদ দিয়ে নিজের তালিকাটা অন্তর্ভুক্ত করা সেটা তো নীতিসিদ্ধ না। তো তালিকায় যেহেতু কিছুটা ত্রুটি ছিল পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আছে এবং সবাই মিলে আর একটা পরিচ্ছন্ন তালিকা করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের এই হাওর এলাকা নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই হাওর এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে নিয়ে বসেছিলেন এবং বসে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কৃষকদেরকে যেন ভর্তুকি দেয়া হয়। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী তিন মাস কৃষকদেরকে একটা ভর্তুকি দেয়া হবে। আমরা আশা করছি, অতি শিগগিরই সেই ভর্তুকিটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিতরণ করা হবে।

মামুন রণবীর, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ