কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বহুদিন ধরে পলাতক থাকা শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মিয়া ওরফে ‘শাকের মাঝি’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় এবং টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই মোর্শেদ আলমসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর শাকের মাঝিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাকের মাঝি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সীমান্ত এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
বিশেষ করে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জগামী নৌকাডুবির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, মানবপাচারের পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাকের মাঝিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই গ্রেপ্তার মানবপাচার ও সীমান্তভিত্তিক অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।