দীর্ঘ দেড়যুগ পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে উপস্থিত হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সবাই মিলে দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসুন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় ঘিরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিকাল তিনটার দিকে তারেক রহমানের আগমনের কথা থাকলেও নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে তিনি কিছুটা দেরিতে কার্যালয়ে পৌঁছান। বিকেল চারটার দিকে তিনি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
কার্যালয়ে প্রবেশ করে সরাসরি দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সালাম জানান তারেক রহমান। এরপর মাত্র এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। আনুষ্ঠানিক দিনেই বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন তিনি। তবে আপাতত তার একটাই বার্তা—দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, “যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সবাই যদি সচেষ্ট হই, তাহলে দেশ বদলানো সম্ভব। কোথাও রাস্তায় কাগজ বা ময়লা পড়ে থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া—এমন ছোট ছোট কাজ দিয়েই দেশ গড়ার শুরু হতে পারে।”
এ সময় তিনি সবার কাছে তার মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি নিজের জন্য এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া চান। বক্তব্য শেষে তিনি সবাইকে ভালো থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে বিকাল তিনটার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তারেক রহমান। নয়াপল্টনে পৌঁছালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে কার্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর করে তোলেন।
দীর্ঘদিন পর নয়াপল্টনে তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য হলেও দেশ গড়ার বার্তাটি বিএনপির রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।