দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। পরে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে থাকা সব সেনাসদস্য ব্যারাকে ফিরে যাবেন বলে আশা করছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল কোর কমিটির প্রথম বৈঠক। এর আগে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-কে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), Dhaka Metropolitan Police কমিশনার, Border Guard Bangladesh-এর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। পরে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যদের ক্লান্তি ও বিশ্রামের প্রয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিকবার তাদের প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল।