ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে দেশবাসীকে এক বছরের জন্য স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭৭৯ কোটি মার্কিন ডলার কমে গেছে। ফলে রিজার্ভের ওপর চাপ সামাল দিতে সরকার এখন আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে। এর অন্যতম বড় খাত হচ্ছে স্বর্ণ আমদানি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ক্রেতা দেশ ভারত। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন স্বর্ণ কেনা হলেও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয় মাত্র ১ থেকে ২ টন। ফলে প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ স্বর্ণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত প্রায় ৭২০০ কোটি মার্কিন ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ৯ শতাংশই স্বর্ণ খাতে ব্যয় হচ্ছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরই সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় স্বর্ণ আমদানিতে।
এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, দেশের স্বার্থে আগামী এক বছর পারিবারিক অনুষ্ঠান হলেও নতুন স্বর্ণালংকার না কেনার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি মনে করেন, এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।