ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। স্বামী নির্বাচনে পরাজিত হলেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বিপুল ভোটে জয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট, ফলে তিনি পরাজিত হন।
তবে নির্বাচনে হারলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি মতিউর রহমানের পরিবার। তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নীকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত করেছে দলটি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে তার সক্রিয় ভূমিকা ও অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে মনোনয়ন বোর্ড তার ওপর আস্থা রেখেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলের কঠিন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের ফলও হতে পারে।
এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী কীভাবে সংসদে নিজের ভূমিকা রাখবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।