নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে কাঁচা-পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম ক্ষতি আর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়ার বৈরিতায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে বর্তমানে তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গত কিছুদিন ধরে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বজ্রপাতে গতকাল সোমবার খালিয়াজুরী উপজেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বজ্রপাতের ভয়ে কৃষকরা হাওরে নামতে ভয় পাচ্ছেন। এরমধ্যে দেখা দিয়েছে শ্রমিক ও ধান কাটার মেশিন সংকট। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনঝুঁকি নিয়েই পানিতে নেমে ধান কাটছেন।
নেত্রকোণার কেন্দুয়ার একটি হাওরে স্থানীয় কৃষক শাহজাহান মিয়া ফসল আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, কয়েক একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু জমিতে পানি উঠে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। মেশিন পাচ্ছি না, শ্রমিকও পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কেটে নৌকায় তুলছি।
কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, এমন দুর্যোগের বছর আগে দেখিনি। সময়মতো ধান তুলতে পারছি না। আবার ধানের দামও কম। এবার খরচ তোলাও কঠিন হয়ে যাবে।
একই চিত্র দেখা গেছে জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার হাওরেও। খালিয়াজুড়ির কৃষক আব্দুল আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি বেড়ে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এই আবহাওয়ায় হাওরে ধান কাটতে গেলে বজ্রপাতের ভয় কাজ করে। এবারের ফসল নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
জেলার মদন,মোহনগঞ্জ,কলমাকান্দা, আটপাড়া ও বারহাট্টার হাওরাঞ্চলের কৃষকদেরও একই দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১০ উপজেলায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি। তবে বৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭২ হেক্টর জমির বোরো ধান জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। বাজারমূল্যে যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় তিন কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানিতে এবার কিছু জমি আক্রান্ত হয়েছে। সেজন্য উঁচু জমিতে ধার রোপণের পরামর্শ দেয়া হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর তেল সংকট কেটে গেলে হারভেস্টার মেশিনগুলো ভালোভাবে ধান কেটে ফেলতে পারবে।
নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার কংস, সোমেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে বন্যার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোণায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় নেত্রকোণা জেলাজুড়েই বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
মামুন রণবীর, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি।