চরকিতে মুক্তি পেয়েছে শিহাব শাহীনের নতুন ওয়েব সিনেমা ‘তোমার জন্য মন’, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই সময়ের আলোচিত জুটি—ইয়াশ রোহান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। রোমান্টিক ঘরানায় নির্মাতার পরিচিতি আগেই প্রতিষ্ঠিত, আর সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এবার দর্শক কেমন অভিজ্ঞতা পেল?
রোমান্সের শুরু কক্সবাজারে
গল্পের শুরু ২০১৯ সালে। কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে রওনকের (ইয়াশ) সঙ্গে পরিচয় হয় পিউর (তটিনী)। প্রথম পরিচয় সুখকর না হলেও সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে তৈরি হয় বন্ধুত্ব, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় প্রেমে।
বিয়ে করার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গড়ায় সম্পর্ক। কিন্তু রওনকের পরিবারিক পরিচয় পিউর পরিবার মেনে না নেওয়ায় গল্পে আসে বড় বাঁক। এই সামাজিক বাধাই তাদের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
ছোট সময়েও গল্প বলার দক্ষতা
মোট রানটাইম ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট—সময়ের দিক থেকে ছোট সিনেমা হলেও শিহাব শাহীনের পরিচালনার দক্ষতায় গল্পটি দ্রুত এগিয়ে যায়। প্রথম দৃশ্য থেকেই দর্শক ঘটনাপ্রবাহে যুক্ত হয়ে পড়ে।
গল্পে খুব বড় চমক না থাকলেও চিত্রনাট্যের গতি ও দৃশ্য বিন্যাস সিনেমাটিকে দেখার যোগ্য করে তুলেছে। সংলাপ, আবহ, এবং চরিত্র দুটির আবেগ—সব মিলিয়ে জুটির রোমান্স দেখতে মন ভালো করে দেয়।
ইয়াশ–তটিনীর রসায়ন: সিনেমার আসল শক্তি
রওনকের চরিত্রে ইয়াশ রোহান ছিলেন স্বাভাবিক ও সংযত। তার অনুভূতির টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছেন যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে।
পিউ চরিত্রে তটিনী ছিলেন দুই ভিন্ন রূপে—শুরুর গ্ল্যামারগার্ল এবং শেষে আবেগপ্রবণ, ভঙ্গুর মেয়ে। দুই রূপেই তিনি সহজাত অভিনয় করেছেন।
পর্দায় তাদের রসায়ন সিনেমার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ। বিশেষ করে কক্সবাজারের দৃশ্যগুলোতে জুটির chemistry দর্শকদের বেশ টানে।
যেখানে দুর্বলতা
সিনেমার পার্শ্বচরিত্রগুলো খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। গল্পের কিছু জায়গায় আবেগ তৈরি হলেও গভীরতা ঠিকমতো তৈরি হয়নি।
বিশেষ করে রওনক যশোরে ফিরে যাওয়ার পর সম্পর্কের প্রবাহ আরও দেখানো হলে গল্প অধিক শক্তিশালী হতে পারত।
এছাড়া বিয়ের প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তের অংশগুলো অল্প সময়ের মধ্যে এসে পড়ায় কিছু দর্শকের কাছে তা আকস্মিক মনে হতে পারে।
সার্বিকভাবে কেমন সিনেমা?
‘তোমার জন্য মন’ একটি মিষ্টি, সহজ, দেখলেই ভালো লাগা টাইপ রোমান্টিক সিনেমা। নতুন কোনো ভাঙচুর না থাকলেও, গল্পের গতি, দুই অভিনেতার অভিনয়, এবং শিহাব শাহীনের নির্মাণ—সব মিলিয়ে এটি দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়।