গিনি-বিসাউয়ে টানা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনী মেজর জেনারেল হোর্তা ইনতা-আকে দেশের নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনার একদিন পর এই ঘোষণা আসে।
পশ্চিম আফ্রিকার এই ছোট দেশটিতে বুধবার রাতেই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যস্থতায় তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে সেনেগালে পৌঁছান বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
গত পাঁচ বছরে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় এটি নবম সামরিক অভ্যুত্থান। সামরিক প্রভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোকেন পাচারের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার কারণে গিনি-বিসাউ দীর্ঘদিন ধরেই নজরকাড়া অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে একদল সেনা কর্মকর্তা নিজেদের ‘হাই মিলিটারি কমান্ড ফর দ্য রিস্টোরেশন অব অর্ডার’ পরিচয়ে ঘোষণা দেন যে প্রেসিডেন্ট এমবালোকে তারা ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। তাঁদের দাবি, কিছু রাজনীতিক ও শক্তিশালী মাদক চক্র দেশটিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, যা রোধ করতেই তারা হস্তক্ষেপ করেছে।
গতকাল প্রচারিত অনুষ্ঠানে সামরিক পোশাক পরে প্রথমবারের মতো জনগণের সামনে আসেন নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোর্তা ইনতা-আ। তিনি বলেন, “মাদক পাচারকারীরা গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। দেশকে রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।” তিনি জানান, এক বছরের জন্য অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হবে।
শপথ গ্রহণের পর ইনতা মেজর-জেনারেল টমাস জ্যাসিকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
অভ্যুত্থানের আগের দিন রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গুলির শব্দ শোনা যায়। টেলিভিশন ঘোষণার আগেই ফোনে এমবালো বিদেশি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে এমবালোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তরুণ নেতৃবৃন্দের একজন, ৪৭ বছর বয়সী ফার্নান্দো দিয়াস। প্রাথমিক ফল প্রকাশের আগেই এই অভ্যুত্থান হওয়ায় নতুন অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গিনি-বিসাউয়ের চলমান সংকট আবারও প্রমাণ করছে—অঞ্চলটিতে সামরিক শক্তির প্রভাব এখনো ব্যাপক, আর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে গভীরভাবে ঝুঁকির মুখে।