রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন–সমর্থিত এই রূপরেখা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—কিয়েভ প্রয়োজনীয় অঞ্চলগুলো ছেড়ে না দিলে যুদ্ধ থামানোর কোনো সুযোগ নেই।
কিরগিজস্তান সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে। যদিও শান্তি পরিকল্পনার বেশ কিছু অংশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পুতিন বলেন, “সাধারণভাবে আমরা একমত যে এই খসড়া ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হতে পারে, তবে এখনো বড় বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে।”
তিনি জানান, আলোচনার অগ্রগতি বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফরে আসবেন। আলোচনায় দনবাস ও ক্রিমিয়া—রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন দুই অঞ্চলের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
ইউক্রেনের তরফ থেকেও আলোচনার ইঙ্গিত এসেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক করছেন। জেনেভা বৈঠকে আলোচিত রূপরেখা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের প্রতিনিধিদল মিলিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়ায় ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রাশিয়ার কাছে ছাড়তে বলা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী আলোচনা শেষে কয়েকটি বিতর্কিত অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎস্যা জানান—ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা সীমা, যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা—এসব ধারা সংশোধিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়ে গেছে।
তবে চূড়ান্ত প্রস্তাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুতিন বলেন, “এখনো কোনো চূড়ান্ত সংস্করণ নেই। আমরা খসড়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের মন্তব্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলো ছাড়তে অনিচ্ছুক কিয়েভ সমঝোতার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষের হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে; তাই শান্তি আলোচনার যেকোনো অগ্রগতি বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।