পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার কোনো তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তথ্য জানতে বহুবার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা সড়কে ১৬ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে কর্মসূচি স্থগিত করে তিনি ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হন।
গোরখপুর চেক পোস্টে সাংবাদিকদের তিনি জানান, দলের নেতা–কর্মীরা সারারাত অবস্থান স্থলে কাটিয়েছেন। তার ভাষায়, “এটি কেবল একটি রাত। প্রয়োজনে ইমরান খানের জন্য আজীবন এখানে অবস্থান করতেও আপত্তি নেই।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, সংবিধান ও আইনি কাঠামোর সব পথ অনুসরণ করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার নেতার সঙ্গে দেখা করতে আর কতগুলো পথ অনুসরণ করতে হবে?”
সোহেল আফ্রিদি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও দেখা করবেন। আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হলে তা দেশের বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পিটিআই নেতা–কর্মীরা ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ায় গতরাতে গোরখপুর চেক পয়েন্টে দীর্ঘসময় ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তেহরিক তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তানের প্রধান মাহমুদ খান আচাকজাই, মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিমের আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা প্রতিবাদে অংশ নেন।
আচাকজাই অভিযোগ করেন, আদালতের লিখিত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফেডারেশন ইচ্ছাকৃতভাবে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার ও পশতুন জনগণের কণ্ঠস্বরকে সামনে এনেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি আশা করছেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি পুনরায় আদিয়ালা রোডে ফিরে আসবেন এবং ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি আদায় করতে পারবেন।