২০১৪ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের নেপথ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত ছিল—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা ও সাবেক সাংসদ কুমার কেতকার। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সদর দপ্তর তিলক ভবনে সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কংগ্রেস ২০০৯ সালের নির্বাচনে ২০৬টি আসন পেলেও ২০১৪ সালে দলটি এসে দাঁড়ায় মাত্র ৪৪ আসনে, যা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে তাদের অন্যতম বড় ভরাডুবি। এমন আকস্মিক পতনকে ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন না কুমার কেতকার।
তিনি বলেন, “কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিল সত্য, কিন্তু ২০৬ থেকে সরাসরি ৪৪-এ নেমে আসা যুক্তির বাইরে। শুধু জনমতের প্রতিফলন হলে এমন হওয়ার কথা নয়।”
তার দাবি, ২০১৪ সালে কংগ্রেস যাতে আবার ক্ষমতায় না ফিরতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কেতকার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদ মনে করেছিল—কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলে তাদের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হবে। তাই নির্বাচনের আগেই কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টায় তারা বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
কুমার কেতকার তার আগের বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করেন—২০০৪ ও ২০০৯ সালের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে কংগ্রেস ২০১৪ সালে ২৫০টির বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সম্ভাবনা তৈরি হতেই ‘আসল খেলা’ শুরু হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেতকারের এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে কংগ্রেস বা অন্যান্য দল এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।