ভারতের রাজস্থান রাজ্যের চিতোরগড়ের এক পরিচিত ফল ব্যবসায়ী কানাইয়ালাল খাটিক সম্প্রতি গ্যাংস্টারদের চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। প্রচুর সোনা পরার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘গোল্ডম্যান’ নামে পরিচিত। তাঁর শরীরে প্রায় সাড়ে ৩ কেজি সোনা থাকে সবসময়, যা তাঁকে এলাকায় বিশেষভাবে নজরকাড়া করে তুলেছে।
মিসড কল থেকে শুরু ভয়াবহ হুমকি
পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে খাটিক জানান, দুই দিন আগে তাঁর মোবাইলে প্রথমে একটি মিসড কল আসে। পরে একই নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল দেওয়া হয়। তিনি ফোন না ধরলে এক অডিও রেকর্ডিং পাঠানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও সতর্ক করে বলেন—
“দাবি না মানলে সোনা পরার মতো অবস্থায়ও আর থাকতে পারবেন না।”
এরপর আরও কয়েকবার ফোন করে একই হুমকি পুনরায় দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বুঝে খাটিক দ্রুত চিতোরগড়ের কোতোয়ালি থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
কে এই গ্যাংস্টার রোহিত গোদারা?
অভিযোগ অনুযায়ী, হুমকি দেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের কুখ্যাত গ্যাংস্টার রোহিত গোদারার সহযোগী বলে পরিচয় দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়—
- গোদারার বিরুদ্ধে ৩২টির বেশি মামলা রয়েছে।
- তিনি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন বলে ধারণা।
- রাজস্থানের ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি তাঁর প্রধান কার্যক্রম ছিল।
- পাঞ্জাবি র্যাপার সিধু মুসওয়ালা হত্যাকাণ্ডেও তাঁর নাম উঠে আসে।
- ২০২২ সালে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাই পালিয়ে যান।
- তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি রয়েছে।
ফল বিক্রেতা থেকে ‘গোল্ডম্যান’
বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী খাটিক একসময় হাতে টানা ভ্যানে সবজি বিক্রি করতেন। পরে ফল, বিশেষ করে আপেলের ব্যবসা শুরু করলে তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়। ধীরে ধীরে তিনি সোনার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং এখন প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ কেজি সোনার গয়না পরেন।
সোনা পরার অভ্যাসের জন্য স্থানীয়রা তাঁকে ভারতের বিখ্যাত শিল্পী বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।
পুলিশি তদন্ত চলছে
পুলিশ ইতিমধ্যে নম্বরগুলো ট্র্যাক করা শুরু করেছে এবং চাঁদাবাজি চক্রটি গোদারা গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাটিকের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।