খেলাধুলায় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করতে চায় সৌদি আরব। ফুটবল, বক্সিং, গলফ থেকে শুরু করে মোটরস্পোর্ট—সব ক্ষেত্রেই তারা ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ ঢেলেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নারী ক্রিকেট। প্রথমবারের মতো দেশটিতে আয়োজন হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার নারী টি–টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা।
২০২৬ সাল থেকে শুরু হচ্ছে উইমেনস ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ
বেসরকারি সংস্থা ফেয়ারব্রেক এবং সৌদি ক্রিকেট যৌথভাবে ২০২৬ সাল থেকে শুরু করবে উইমেনস ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ—যা হবে নারীদের জন্য সৌদি আরবের প্রথম পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আসরে অংশ নেবে ৩৫টির বেশি দেশের নারী ক্রিকেটার।
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হতে পারে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে।
ছয় দলের প্রতিযোগিতা, মোট ১৯ ম্যাচ
টুর্নামেন্টে থাকবে ৬টি দল, প্রতিটি দলে ১৫ জন খেলোয়াড়।
নিলাম ছাড়া, নির্বাচক প্যানেলের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করবে আয়োজকরা—ফেয়ারব্রেকের নীতির ধারাবাহিকতায়।
মোট ম্যাচ সংখ্যা: ১৯টি
- রাউন্ড–রবিন পর্ব
- ২টি সেমিফাইনাল
- ১টি ফাইনাল
এতে বিশ্বসেরা তারকারা খেলার সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেতন কাঠামো: বড় লিগের সমান হতে পারে পারিশ্রমিক
খেলোয়াড়দের বেতন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনা চলছে ৩ বা ৪ স্তরের বেতনশ্রেণি নিয়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেরা খেলোয়াড়রা এমন বেতন পাবেন যা দ্য হান্ড্রেড বা উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগের সমান হতে পারে।
আগের ফেয়ারব্রেক ইনভাইটেশনাল ছিল সফল
ফেয়ারব্রেক ইনভাইটেশনাল ইতোমধ্যে আইসিসি অনুমোদিত একটি সফল টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত।
সেখানে লরা উলভার্ট, চামারি আতাপাত্তু, মারিজান ক্যাপ, সোফি একলেস্টোনসহ শীর্ষ তারকারা অংশ নিয়েছিলেন।
তবে ভারতীয় ক্রিকেটাররা অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় খেলতে পারেননি—নতুন টুর্নামেন্টেও তাঁদের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।
নারী ক্রিকেটে সৌদির উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে
এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানচিত্রে সৌদি আরবের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
২০২৪ সালে জেদ্দায় আইপিএল নিলাম আয়োজনের পর এবার বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
ভবিষ্যতে ইউএই–ভিত্তিক আইএল টি–টোয়েন্টি লিগের কিছু ম্যাচও সৌদিতে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।