বার্সেলোনার বিশ্বখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ ফুটবল বিশ্বের প্রতিভা তৈরির এক অশেষ ভান্ডার। এখান থেকেই উঠে এসেছে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, ইয়ামালসহ অসংখ্য তারকা। সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে মাত্র ১২ বছরের ফুটবল প্রতিভা—ডেসটিনি কোসিসো এজিফোর। বয়স কম হলেও আলোচনার কেন্দ্রে সে অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছে তার গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতায়। এবার তাকে ঘিরে আরও বড় আলোচনার জন্ম হলো—নাইকির সঙ্গে তার নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি।
১৪৫ গোল করে আলোচনার শীর্ষে
ডেসটিনির ফুটবল যাত্রা বয়সের চাইতেও এগিয়ে। বার্সার অনূর্ধ্ব–১২ দলে প্রথম মৌসুমে তাকে খেলানো হয়েছিল বয়সে বড়দের সঙ্গে। সেই মৌসুমে ৯ ম্যাচে ১৬ গোল করে নজর কাড়ে এই ক্ষুদে ফরোয়ার্ড।
কিন্তু আসল বিস্ময় তৈরি হয় গত মৌসুমে। সাতজনের দলে খেলে ৫২ ম্যাচে ১৪৫ গোল করে সে ইউরোপের বয়সভিত্তিক ফুটবলে সাড়া ফেলে দেয়। তার গতি, দুই পায়েই সমান দক্ষতা, দ্রুত দৌড় আর শক্তিশালী ফিনিশিং দক্ষতা তাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
পারিবারিকভাবেই ‘লা মাসিয়ার সন্তান’
ডেসটিনির ফুটবল প্রতিভা পারিবারিকভাবেই যেন তৈরি হয়েছে। তার বড় ভাই ডেভিড ও মেজ ভাই ডিভাইন—দুজনই ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে এসেছেন। ডেভিড এখন স্প্যানিশ পাঁচ নম্বর লিগের দল কর্নেলায় খেলছেন, আর ডিভাইন বার্সার অনূর্ধ্ব–১৫ দলে। তবে সব আলো এখন ছোট ভাই ডেসটিনির ওপরেই।
বড় মঞ্চে প্রতিষ্ঠা: জ্যামন কাপ থেকে কোপা ইসকা
স্পেনের বয়সভিত্তিক দুই বিখ্যাত টুর্নামেন্ট—জ্যামন কাপ ও কোপা ইসকায় ডেসটিনি ইতোমধ্যেই তার সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছে। ২০২৩–২৪ মৌসুমে কোপা ইসকায় ২০ গোল করে বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন করে তোলে সে। বার্সার অনূর্ধ্ব–১০ দলে আগের মৌসুমেও ২৭ ম্যাচে ১০০ গোল করেছিল এই বিস্ময়বালক।
নাইকির চুক্তি: প্রতিভা নাকি বিতর্ক?
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস জানিয়েছে, মাসের শুরুতেই ১২ বছর বয়সী ডেসটিনির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে ক্রীড়া–সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকি। চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রখ্যাত ফুটবল এজেন্ট পিনি জাহাভির কোম্পানি—গোল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, যারা হান্সি ফ্লিক ও রবার্ট লেভানডফস্কির ক্যারিয়ারও পরিচালনা করে।
তবে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিনিধিত্বমূলক চুক্তি করার অনুমতি নেই। যদিও এই চুক্তি ‘বাণিজ্যিক’, তবু এত অল্প বয়সে এমন চুক্তি কতটা নৈতিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
লা মাসিয়ার নতুন তারকা তৈরির প্রত্যাশা
ডেসটিনি এখনো পেশাদার ফুটবলের পথে যাত্রা শুরু করেনি। সামনে অনেক পথ পড়ে আছে। তবে বার্সার কোচিং স্টাফদের বিশ্বাস—এভাবে এগোতে পারলে সে ভবিষ্যতে লামিনে ইয়ামাল বা এমবাপ্পের মতো সুপারস্টারের পথেই হাঁটবে।
তার শক্তি, গতি, টেকনিক ও গোল করার ক্ষমতা ইতোমধ্যেই ইউরোপের স্কাউটদের নজর কেড়েছে। ফুটবল দুনিয়া এখন অপেক্ষায়, বার্সেলোনার এই ক্ষুদে গোলমেশিন ভবিষ্যতে কতদূর যায়।