সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
🏠︎ » অর্থনীতি » বাংলাদেশে স্বাবলম্বিতা: বিপাকে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা

বাংলাদেশে স্বাবলম্বিতা: বিপাকে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা

ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম তলানিতে নেমে এলেও রপ্তানি খাতে চলছে অভূতপূর্ব স্থবিরতা। ভারতীয় কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিতে বিস্মিত হলেও এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে দ্রুত স্বাবলম্বী হওয়া এবং ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তান ও চীন থেকে আমদানির প্রবণতা।

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের রপ্তানি করা মোট পেঁয়াজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যেত বাংলাদেশে। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করেছে খুবই সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ—যেখানে ঢাকার বাজারে দাম ভারতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। শুধু বাংলাদেশই নয়, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের বাজার পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত ভারত

ভারতের রপ্তানিকারকেরা অভিযোগ করছেন, তাদের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বিদেশে চলে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ বহু ঐতিহ্যবাহী ক্রেতা এখন নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এতে ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমছে দ্রুত।

হর্টিকালচার প্রোডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান অজিত শাহ জানান—“আমরা একসময় গুণমানের জন্য বেশি দাম নিতে পারতাম। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা বাজার থেকে দূরে থাকায় ক্রেতারা এখন বিকল্প উৎস বেছে নিয়েছে। এখন তারা গুণমান নয়, দামের তুলনায় গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ভারতের ঘন ঘন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাই মূল কারণ

২০১৯ সাল থেকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে—

  • ২০১৯: সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাস নিষেধাজ্ঞা
  • ২০২০: সেপ্টেম্বর থেকে ৫ মাস নিষেধাজ্ঞা
  • ২০২৩–২০২৫: বিভিন্ন সময় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ

ফলাফল—ভারতনির্ভর দেশগুলো বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান, চীন, ইরান, ইয়েমেনসহ অন্যান্য উৎসে ঝুঁকতে।

বাংলাদেশ এখন উৎপাদন বাড়াতে বেশি মনোযোগী

২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করেছিল ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন—যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা।

সরকারি বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সচেতনভাবে আমদানিনির্ভরতা কমিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ভারতের ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনই ক্রেতাদের অন্যত্র ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিযোগী বাজারে ভারত পিছিয়ে

বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন—“আমরা শুধু ক্রেতা হারাইনি, তারা ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে নিজেরাই উৎপাদনে সক্ষম হয়ে উঠছে। এতে ভারতের যুগল আধিপত্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

এখন ফিলিপাইনস, সৌদি আরব, বাংলাদেশ—সবাই ভারতীয় পেঁয়াজের পরিবর্তে অন্য দেশ থেকে উৎপাদন বা আমদানির সহজ পথ খুঁজে নিয়েছে।

শেয়ার করুন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ