হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের ভল্টে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ৩২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা প্রকাশ করেনি বিমান বাংলাদেশ। মূল্যবান সম্পদ উধাও হওয়ার ঘটনায় একের পর এক নতুন প্রশ্ন তৈরি হলেও, বিমান কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে।
ভল্টে ছিল শুধু অস্ত্র নয়, মূল্যবান সম্পদও রাখার তথ্য
ঘটনার পর কিছু অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার কথা জানালেও স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ সেখানে ছিল কিনা—সেটি এখনো নিশ্চিত করেনি বিমান। তবে প্রাপ্ত নথি বলছে, ওই ভল্টে রুটিনভাবেই স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো।
২৮ অক্টোবরের রাত: সবকিছু নিয়ে গেল চক্র
২৮ অক্টোবর রাতে স্ট্রং রুমে ঘটে চুরির ঘটনা। তদন্ত সূত্র অনুযায়ী, চক্রটি পরিকল্পিতভাবেই ভল্টে ঢুকে অস্ত্র ছাড়া প্রায় সব মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে ফেলে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল ভবন সত্ত্বেও ভল্ট অক্ষত ছিল—এ তথ্য বিমান বাংলাদেশ নিজেই সচিবকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
যে প্রশ্নে নতুন বিতর্ক—কেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তাকর্মী?
ঘটনার আগে ভল্টের পাশ থেকে নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ভবনের একটি অংশ আগুনে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ছাদ ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল—তাই কর্মীদের সরানো হয়। কিন্তু ঘটনার সময়কার দায়িত্বরতদের কেউই এখনও থানায় হাজির হননি।
তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ পুলিশের
যদিও বিমানবন্দর থানা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করেছে, তবুও সেখানে চুরি হওয়া পণ্যের তালিকা দেয়নি বিমান বাংলাদেশ। পুলিশের দাবি—বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করছে না। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তলব করা হলেও কেউ থানায় হাজির হননি।
কাস্টমসের দাবিও ভিন্ন পথে
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানায়, ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে মূল্যবান পণ্য তাদের হেফাজতে নেওয়ার বিধান আছে। তবে বিমান যে চিঠি পাঠিয়েছিল—তা সরাসরি কাস্টমস পায়নি; বরং সচিবের কাছে পাঠানো ওই চিঠি পর্যালোচনার আগেই ঘটে চুরির ঘটনা।
কেন এই দীর্ঘ নীরবতা?
এত বড় ধরনের চুরির পরও এখনো মামলা হয়নি, তালিকা প্রকাশ হয়নি, আলোচনাও সীমিত—এসবই জনমনে নতুন সন্দেহ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত ও সম্পদের সঠিক তালিকা প্রকাশ ছাড়া এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন কঠিন।