বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ‘টিম বেঙ্গলবোট’। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ রোবোবোট প্রতিযোগিতা ২০২৬–এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই বহুমাত্রিক দল।
এমআইটি, স্ট্যানফোর্ডসহ বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ৩৪ সদস্যের টিম বেঙ্গলবোট। দলে রয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, পাশাপাশি রয়েছেন উপদেষ্টা, মেন্টর ও চ্যাপেরনরা।
রোবোবোট প্রতিযোগিতা: প্রযুক্তি–দক্ষতা প্রমাণের বিশ্বমঞ্
আগামী ১৯–২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউএস নেভির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে রোবোবোট (ASV/AUV) প্রতিযোগিতা। মূল লক্ষ্য—
- সমুদ্রবিজ্ঞান
- রোবোটিকস
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
এগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি অটোনমাস সারফেস ভেহিকেল (ASV) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
‘তরী ১.০’: বাংলাদেশের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নৌযান
টিম বেঙ্গলবোট ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প—
স্বয়ংক্রিয় পৃষ্ঠভাগীয় নৌযান (ASV) ‘তরী ১.০’
রোবটটির বৈশিষ্ট্য:
- স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন
- বাধা শনাক্ত ও এড়িয়ে চলার ক্ষমতা
- নির্ধারিত টাস্ক সম্পন্ন করার দক্ষতা
- জলপথে ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা
বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, দূষণ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ–উত্তর জরিপসহ নানা খাতে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য: পূর্ণাঙ্গ আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল তৈরি
প্রকল্প ব্যবস্থাপক আন নাফিউ জানান—
“আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়; বরং এমন একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় AUV তৈরি করা, যা পানির নিচে নিজে নিজে চলাফেরা করতে ও বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।”
তিনি আরও জানান, ‘তরী ১.০’ বাংলাদেশের জলপথে ডেটানির্ভর সমাধান তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।
যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন
উপদেষ্টা: রিসালাত বারী
মেন্টর: মোহাম্মদ ফোয়েজ, এমডি তসলিম, সুদীপ্ত মন্ডল, মো. মাসরুল খান, খন্দকার রেদওয়ানুর রহমান, মো. রিফাত হোসাইন
স্টুডেন্ট টিমের সদস্যরা:
আন–নাফিউ, রুবাইয়্যাত এইচ রহমান, হাসিন ইসরাক চৌধুরী তাহা, আরিয়ান সিদ্দিক, গাজী ফয়সাল জুবায়ের, তানভীর রহমান সাদ, সিরাজুম মুনির, নাফিয়া বাশার সুহানি, শাবাবা ইসলাম প্রিয়ন্তি, আবিদ মাহমুদ, মুরাদ হোসেন, সাস্মিত বণিক, মাশরুর আরেফিন ভূঁইয়া, জারিফ বিন সালেক, তুফাজ্জল ইসলাম, সামনুন সিয়াম, প্রাঞ্চয় তারাফদার, শাহ মো. আব্দুর রহমান সিয়াম, জান্নাতুল মাওয়া আমরিনসহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় উত্থান
রোবোটিকস ও ব্লু–ইকোনমি খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনার বড় পরিচয় হয়ে উঠতে পারে এই অংশগ্রহণ। বিশ্বমঞ্চে তরুণদের এই উপস্থিতি দেশে প্রযুক্তি–দক্ষ প্রজন্ম গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।