গুগলের সর্বশেষ ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশে কনটেন্ট অপসারণ সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রিপোর্টে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মোট ২৭৯টি কনটেন্ট অপসারণ অনুরোধ পাঠিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখা প্রদান করে।
সরকারের দাবি: সমালোচনামূলক কনটেন্ট নয়, শুধু ভুয়া তথ্যই লক্ষ্যবস্তু
সরকার জানিয়েছে, দেশের কোনো গণমাধ্যম প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট, রাজনৈতিক সমালোচনা, নিবন্ধ বা ভিডিও অপসারণের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করা হয়নি।
সরকার ব্যাখা দেয়—অনুরোধগুলো কেবলই মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা, চরিত্রহননমূলক এবং বেআইনি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সম্পর্কিত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংস্থার মাধ্যমে এসব অভিযোগ বিটিআরসিতে পৌঁছে, এবং পরে তা গুগলে পাঠানো হয়।
অপসারণ অনুরোধের সংখ্যা আওয়ামী আমলের তুলনায় বহু কম
সরকারের ব্যাখা অনুযায়ী:
- আওয়ামী লীগ সরকারের জুন–ডিসেম্বর ২০২২ সময়ে অনুরোধ ছিল ৮৬৭টি
- ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অনুরোধ মাত্র ২৭৯টি, যা ওই সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও কম
- জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ে অনুরোধ ছিল ১৫৩টি
- ২০২৩ সালের সর্বনিম্ন অনুরোধ (৫৯১টি)-এরও অর্ধেকের কম
গুগলের রিপোর্টে আরও দেখা যায়—অনুরোধের ৬৫% ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ নয়।
মিসইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা মোকাবেলায় বাড়ছিল চাপ
২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশ ভেতর ও বাহির থেকে ব্যাপক মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের মুখোমুখি হয়।
প্রতিবেশী দেশের কিছু গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে নিষিদ্ধ হওয়া দলগুলোর অনলাইন কার্যক্রম, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছিল বলে সরকারের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে কিছু কনটেন্ট রিপোর্ট করা হয়।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: সাইবারস্পেস ছিল সবচেয়ে হুমকির জায়গা
জানুয়ারি–জুন ২০২৫ সময়ে:
- শতাধিক আন্দোলন
- মব সহিংসতা
- মাজার ভাঙচুর
- গণপিটুনি
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
এসব ঘটনায় অনলাইন প্রোপাগান্ডার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য—এমন মন্তব্য সরকারের।
এই কারণে নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কিছু রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
সরকার দাবি করেছে—অনলাইন স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
- ফ্রিডম হাউসের Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে বাংলাদেশ ৪০ থেকে ৪৫ স্কোরে উন্নীত হয়েছে।
- সাত বছরে এটিই সর্বোচ্চ উন্নতি।
- দেশটি এ বছর বিশ্বে সর্বাধিক অগ্রগতি অর্জনকারী একক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ফ্রিডম হাউস জানায়, দমনমূলক সরকার অপসারণ ও ইন্টারনেট নীতি সংস্কারের ফলে এ উন্নতি সম্ভব হয়েছে।
মিডিয়ার প্রতি সরকারের অসন্তোষ
সরকার জানিয়েছে, গুগল রিপোর্ট প্রকাশের আগে তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখা নেওয়া হয়নি।
তাদের মতে—ব্যাখাবিহীন সংবাদ প্রকাশ বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।