করোনাকালীন সময়ে ই–কমার্স ও অনলাইন বাজারে পণ্য ডেলিভারির অসুবিধা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছিলেন উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল হক জামি। ২০২২ সালে তিনি গ্যারেজ থেকে শুরু করে ডিজিটাল লকার স্টেশন ডিজিবক্স চালু করেন, যেখানে আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রথমে এই স্টার্টআপে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি ডিজিটাল লকার স্টেশন দিয়ে ব্যবসা শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি আড়াই কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। তবে লাভের অর্থ পুনঃবিনিয়োগ করা হচ্ছে নতুন লকার স্টেশন ও অফিস পরিচালনায়।
ডিজিবক্সের সিইও রেজওয়ানুল হক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের ৫৫টি স্থানে ৩৫০০-এর বেশি ডিজিটাল লকার পরিচালনা করছে। ঢাকার ৩৬টি লকার সহ রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট ও চট্টগ্রামেও লকার রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ গ্রাহক এই লকার সুবিধা গ্রহণ করেন।
ডিজিবক্সে গ্রাহকরা পণ্য সংগ্রহের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় পান। ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্ডার করলে পণ্য নিকটস্থ লকারে পৌঁছে যায়, এবং একটি ওটিপি কোড ব্যবহার করে গ্রাহক পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকায় ডিজিটাল লকার সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা করছেন। ডিসেম্বরে মোহাম্মদপুরে ডিজি প্লাজা চালু হবে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরা ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেলিভারি নেওয়া যাবে।
ডিজিবক্সের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের ই–কমার্স বাজারের আকার প্রায় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ডেলিভারির বাজার ৭.৫ কোটি ডলার। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ হাজার ডেলিভারি নিশ্চিত করা।”
ডিজিবক্সের উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের লজিস্টিক খাতের স্বচ্ছতা, খরচ কমানো এবং গ্রাহক সুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।