টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর দুই মাস বাকি। অথচ এর আগে প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ পাচ্ছে মাত্র দুটি ম্যাচ। গত কয়েকটি সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও টানা হারের ফলে দলের সামনে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ, যা বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে আরও মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
টানা হারে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
টি–টোয়েন্টিতে টানা চার সিরিজ জয়ের পর দলের ছন্দপতন শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধবলধোলাই থেকে। সেই হতাশা আরও গভীর হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৮২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৯ রানে হারের পর।
এই সব ম্যাচই ছিল রান–সহায়ক চট্টগ্রাম উইকেটে, যেখানে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আরও চোখে পড়েছে।
বিশ্বকাপে দেড়–শর বেশি রান তাড়া করতে হবে
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এখানে প্রথম ইনিংসে গড়ে রান হয় ১৫৩-এর আশপাশে। অর্থাৎ দেড়–শর ওপরে রান তাড়া করা হবে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশ ১৫ বার দেড়–শর ওপরে রান তাড়া করতে নেমে ১২ বারই হেরেছে—যা রান চেজকে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে আনে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বলেন,
“বিশ্বকাপের উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব হবে। সেখানে ১৬০–১৮০ রান তাড়া করতে হবে। এখনকার ব্যাটিং দেখে সেটি উদ্বেগের।”
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অস্থিরতা
অবস্থান বদল, দায়িত্ব অস্পষ্টতা আর অতিরিক্ত শট খেলার প্রবণতা শুরুতেই দলকে চাপে ফেলছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট হারানো এর বড় উদাহরণ।
হাবিবুল বাশার মনে করেন,
“আমরা ব্যাটিং অর্ডার খুব ঘন ঘন পরিবর্তন করি। এতে খেলোয়াড়েরা আত্মবিশ্বাস হারায়। বিশ্বকাপের আগেই স্থায়ী ব্যাটিং অর্ডার নির্ধারণ করা জরুরি।”
দলের ভেতর দ্বন্দ্বও বাড়াচ্ছে চাপ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যর্থ ব্যাটিং লাইনআপ অপরিবর্তিত রাখতে চাওয়ায় অধিনায়ক লিটন দাস ও প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। কেউ চায় একই ব্যাটিং অর্ডার ধরে রাখতে, কেউ চান নতুনদের আরও সুযোগ দিতে।
এই অস্থিরতা দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও নড়বড়ে করে তুলছে।
শেষ দুই ম্যাচই বড় পরীক্ষা
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের হাতে আছে শুধু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ। এরপর শুরু হবে বিপিএল, যেখানে ব্যাটসম্যানরা ফর্ম পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ পাবেন।
যদি সেখানেও ব্যর্থতা চলতে থাকে, তবে আত্মবিশ্বাসহীনতা নিয়েই বিশ্বকাপে নামতে হবে বাংলাদেশকে—যা বড় মঞ্চে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।