🏠︎ » লাইফস্টাইল » দেশ–বিদেশের ম্যারাথনে জেবা: দৌড়ে দৌড়ে লাখ টাকার সাফল্য

দেশ–বিদেশের ম্যারাথনে জেবা: দৌড়ে দৌড়ে লাখ টাকার সাফল্য

দেশ–বিদেশের ম্যারাথন দুনিয়ায় এখন পরিচিত এক নাম—হামিদা আক্তার, সবার কাছে যিনি ‘জেবা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে শুরু করা তাঁর দৌড়যাত্রা আজ তাকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। নেপালের সাম্প্রতিক কাঠমান্ডু ম্যারাথনে ১৩০ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে নারীদের পূর্ণ ম্যারাথনে দ্বিতীয় হয়ে জেবার নাম উঠে এসেছে আলোচনায়।

দৌড়ের শুরুটা কৌতূহল থেকে

একদিন ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। কার্জন হলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চোখ পড়ে জিমনেসিয়াম মাঠে দৌড় প্রতিযোগিতার দিকে। জানতে পারেন—ছাত্রদের ৫ কিলোমিটার দৌড় হচ্ছে, কিন্তু মেয়েদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ মিটার। “তুমি এত দূর দৌড়াতে পারবা না”—এই কথাই যেন তাঁর মধ্যে জেদ তৈরি করে। সেই থেকেই শুরু দৌড়ের প্রস্তুতি।

ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা জেবা এর আগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ওঠার পর একে একে ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিকসে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ২০২০ সালে অ্যাথলেটিকসে হল চ্যাম্পিয়ন হন।

ম্যারাথনে উত্থান: পাঁচ কিলো থেকে ৫০ কিলো

২০১৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ কিলোমিটার দৌড় দিয়ে শুরু। এরপর ধীরে ধীরে দৌড় বাড়তে থাকে—

  • নরসিংদী: ‘দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান’-এ ১০ কিলোমিটারে সফলতা
  • বান্দরবান: ২১ কিলোমিটার ব্যান্ড্রাথনে নারীদের মধ্যে প্রথম
  • ভারতের মেঘালয়: ৪৫ কিলোমিটার মাউকিরওয়াত ট্রেইল আলট্রা
  • গাজীপুর: ৫০ কিলোমিটার আলট্রা ম্যারাথন

প্রতিটি প্রতিযোগিতায় জেবা নিজের সীমা ভেঙেছেন, নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন।

লাখ টাকার পুরস্কার এনে দেওয়া সাফল্যগুলো

২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথনে নারীদের মধ্যে প্রথম হয়ে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার পান জেবা। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০২২ সালে ভারতের লাদাখ ম্যারাথনে নারীদের মধ্যে পঞ্চম হন। আর ২০২৪ সালের কাঠমান্ডু ম্যারাথনে অর্জন করেন নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

পরিবারকে লুকিয়ে দৌড়—তারপর স্বীকৃতি

শুরুতে পরিবার জানতই না যে তিনি ম্যারাথনে দৌড়ান। মেডেল–ক্রেস্ট সবই লুকিয়ে রাখতেন হলে। টিভিতে সাক্ষাৎকার দেখলে ভয়ে চুপচাপ টিভি বন্ধ করে দিতেন। আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে বাসায় খবর পৌঁছাতে থাকে।

ধীরে ধীরে পরিবার বুঝতে পারে—মেয়ে শুধু দৌড়ায় না, দেশের জন্য সম্মানও বয়ে আনে। দুই বছর পর পরিবার পুরোপুরি সমর্থন দেয় জেবাকে।

শিক্ষক থেকে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেন জেবা। ক্লাসরুমের দায়িত্ব সামলে গত সাত বছরে দেড়শর মতো দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। ঘরে ঘরে সাজানো এক শোকেস—মেডেল আর ক্রেস্টে ভরা।

প্রতিবন্ধকতার মুখেও হাল ছাড়েননি

২০২২ সালের ঢাকার একটি ম্যারাথনে অসুস্থতা নিয়ে অংশ নেন। প্রতিযোগিতার একদম শেষে শুরু করেন দৌড়—হাঁটতে হাঁটতে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ভলান্টিয়ারদের হাসাহাসি উপেক্ষা করে ধৈর্য ধরে পৌঁছে যান ফিনিশিং লাইনে।

সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্ত করে। ফিটনেস, ডিসিপ্লিন ও নিয়মিত অনুশীলনে এখন আরও মনোযোগী।

🇧🇩 দেশের পতাকা হাতে আবেগের দৌড়

জেবা বলেন,
“দেশের বাইরে ফিনিশিং লাইন পেরোনোর সময় যখন সবাই ‘বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!’ বলে চিৎকার করেন—সেই মুহূর্ত জীবনেও ভুলব না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ