আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার অনুষ্ঠিতব্য ইসির বৈঠকে ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
সময় বাড়ানোর কারণ: একই দিনে দুটি ভোট
সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে—একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোটের জন্য।
এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর চাপও বাড়বে। এজন্য সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য বিকল্পও বিবেচনায় আছে।
সময়সূচির নতুন প্রস্তাব: সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা
ফেব্রুয়ারির শীতকাল বিবেচনায় রেখে দুই দিক থেকেই সময় বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
- সকালে এক ঘণ্টা আগে ভোট শুরু করা কঠিন হতে পারে, কারণ অনেক এলাকায় ঘন কুয়াশা থাকে।
- অন্যদিকে বিকেলে এক ঘণ্টা বাড়ালে সন্ধ্যা নেমে যেতে পারে।
তাই সময় বাড়ানোর বাস্তবসম্মত প্রস্তাব হিসেবে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
🔹 মক ভোটিং: ভোটকক্ষে সময় বেশি লাগছে
ইসি রাজধানীর একটি কেন্দ্রে মক ভোটিং করে পরীক্ষামূলকভাবে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছে। এতে দেখা যায়—
- গণভোটের ব্যালট পড়তে গিয়ে ভোটারদের সময় বেশি লাগছে।
- প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি করে গোপন কক্ষ স্থাপন করলে ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।
- তবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে অতিরিক্ত গোপন কক্ষ স্থাপনের মতো অবকাঠামো নেই।
এর ফলে সময় বাড়ানো ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে কমিশন।
৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত
আগে শুধু সংসদ নির্বাচন মাথায় রেখে ৪২,৭৬১টি কেন্দ্র ও ২,৪৪,৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছিল। গণভোট যুক্ত হওয়ায় এখন কক্ষ বা সময়—যেকোনো একটি বাড়াতেই হবে।
তফসিল ঘোষণার তারিখ প্রায় চূড়ান্ত
ইসি সূত্র জানায়, ৭–১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণার চিন্তা চলছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দুই মাস সময় রাখার পরিকল্পনা আছে—যা অনুযায়ী ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে।