রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার যুদ্ধ, কূটনীতি বা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নয়—আলোচনার বিষয় তার ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম। সম্প্রতি মস্কোয় আয়োজিত বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তিনি প্রেম করছেন। যদিও প্রেমিকার পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ ব্যক্তিগত প্রশ্ন
বছরের শেষ প্রান্তিকে অনুষ্ঠিত রুশ প্রেসিডেন্টের ঐতিহ্যবাহী প্রশ্নোত্তর পর্বে এক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক জানতে চান, পুতিন কি ‘প্রথম দেখায় প্রেমে’ বিশ্বাস করেন। সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি সম্মতি জানান। এরপর সরাসরি প্রশ্ন আসে—তিনি কি নিজে প্রেম করছেন?
পুতিনের উত্তর ছিল ছোট কিন্তু স্পষ্ট—“হ্যাঁ”।
এই স্বীকারোক্তির পর সাংবাদিকরা প্রেমিকার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
গোপনীয় ব্যক্তিগত জীবন ও পুরনো জল্পনা
ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন কঠোরভাবে গোপন রাখেন। ২০১৪ সালে সাবেক স্ত্রী লিউদমিলা পুতিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন তিনি।
তবে রুশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বহু বছর ধরে অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট আলিনা কাবায়েভার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ধারণা করা হয়, এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। যদিও এসব তথ্য কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি রুশ প্রেসিডেন্ট।
ভাবমূর্তি নরম করার কৌশল?
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রেমের কথা স্বীকার করা পুতিনের ভাবমূর্তিকে কিছুটা মানবিক ও আবেগঘনভাবে তুলে ধরার কৌশল হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার দেয়াল ধীরে ধীরে শিথিল করার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
৭৩ বছর বয়সেও এমন ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি রুশ রাজনীতিতে বিরল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রেমের আবহে অন্যরকম মুহূর্ত
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে ঘটে যায় আরও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। দর্শক সারিতে থাকা তরুণ সাংবাদিক কিরিল বাঝানোভ ‘আমি বিয়ে করতে চাই’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন। বিষয়টি নজরে পড়তেই পুতিন হাস্যরসের সঙ্গে মন্তব্য করেন, এমন প্ল্যাকার্ড উপেক্ষা করা কঠিন।
এই সুযোগে লাইভ সম্প্রচারে নিজের প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই সাংবাদিক। পরে জানা যায়, তার প্রেমিকা প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন—যা সম্মেলনের পরিবেশে এক ধরনের উষ্ণতা যোগ করে।
রাজনীতির ভিড়ে প্রেমের আলোচনা
ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পাশাপাশি প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা এবারের সংবাদ সম্মেলনকে আলাদা মাত্রা দেয়।
তবে প্রেমের কথা স্বীকার করলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। আগের মতোই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন—তার ব্যক্তিগত জীবন সম্মান পাওয়ার যোগ্য।