ইরাকের রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা শিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জোট কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক নূরী আল-মালিকিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে।জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নূরী আল-মালিকিকে বৃহত্তম সংসদীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষমতার কারণেই তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী নূরী আল-মালিকি ইরাকের রাজনীতিতে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টানা দুই মেয়াদে ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ইরাকের রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী, দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণত শিয়া মুসলিমদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হন। সংসদ স্পিকারের পদটি সুন্নি মুসলিমদের জন্য এবং রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক পদটি কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত থাকে।
গত বছরের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর মালিকির দলসহ একাধিক শিয়া রাজনৈতিক দল নিয়ে কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক জোট গঠিত হয়। এরপর থেকেই তারা সুন্নি ও কুর্দি দলগুলোর সঙ্গে নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।এরই মধ্যে নতুন পার্লামেন্ট স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশন বসবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির স্থলে নূরী আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে নূরী আল-মালিকির রাজনৈতিক জীবনে নানা বিতর্কও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়া এবং ইসলামিক স্টেট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিতর্কের মধ্যেই তার নেতৃত্বে নতুন সরকার কেমন হবে, তা নিয়ে ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মনোনয়ন দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা