ঢাকা: শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তার দাফন ও জানাজার কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে আগামীকাল মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ হিমাগারের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তা সংরক্ষণ করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেবেন।
সংগঠনটি আরও জানায়, চলমান আন্দোলনের সময় যাতে কোনো অপশক্তি অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে না পারে, সেজন্য ছাত্র-জনতাকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে মরদেহ প্রকাশ্যে প্রদর্শনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে শহিদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন।
শহিদ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও শ্রদ্ধার আবহ তৈরি হয়েছে। তার স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালনের ওপর জোর দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।