আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয় ,পাবনায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য পক্ষের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, তাদের বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে মুক্তিকামী মানুষের উত্থান দেখে একটি মহল অস্বস্তিতে রয়েছে এবং গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে নিহত হন। এ সময় তিনি প্রয়াত জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহানের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, তাদের রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়নের পথেই জামায়াত এগিয়ে যাচ্ছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে আবারও দুঃশাসন ফিরে আসুক, জামায়াতে ইসলামী তা চায় না। এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দলটি ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা নির্যাতিত ছিলেন তারা যেন কাউকে নির্যাতনকারী না হন।
দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না। সাড়ে তিন কোটি কর্মীর একটি সংগঠন আল্লাহর রহমত ছাড়া শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের গুম ও হত্যার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা এবং প্রায় ৭০০ জনকে গুম করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল এবং অনেক নেতার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের ঘটনার জন্য কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হবে না এবং প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হবে না।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।