🏠︎ » বাংলাদেশ » দুদকের কাঠগড়ায় এবার সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ

দুদকের কাঠগড়ায় এবার সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুদকের (ACC) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের দুর্নীতি দমন সংস্থার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক চেয়ারম্যানকে এমন তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ইকবাল মাহমুদ একজন দক্ষ আমলা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সচিব ও সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি দুদকের চেয়ারম্যান হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বড় পরিসরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালান—বিভিন্ন আলোচিত মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। ironical হলেও, সেই সময়ের দুর্নীতি দমনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি আজ নিজেই অভিযোগের কাঠগড়ায়।

কমিশনের চলমান অনুসন্ধান

সূত্র বলছে, ইকবাল মাহমুদের পাশাপাশি তখনকার দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান এবং মো. জহুরুল হক–এর বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে নানাবিধ অনিয়ম সংঘটিত হয়েছিল।

দুদকে জমা পড়া সাম্প্রতিক একটি অভিযোগ বিশ্লেষণ করেই ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ব্যক্তি মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু, যিনি বর্তমানে কারাগারে, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে দাবি করেন—নির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমে তিনি ইকবাল মাহমুদের সহায়তা পেয়েছিলেন। এই জবানবন্দিই তদন্তের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।

মানি লন্ডারিং শাখা করবে অনুসন্ধান

দুদক জানিয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ শাখার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অনুসন্ধান পরিচালনা করবেন। খুব দ্রুতই তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছে কমিশন।

ভাইয়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

ইকবাল মাহমুদের ছোট ভাই সাদিক মাহমুদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে। পরিবারের সদস্যকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ পুরো ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কী সামনে আসতে পারে?

দুদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে এটি হবে দেশের দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থায় একটি নজিরবিহীন ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ