সিলেটে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনসহ আটক ৩৭ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার মুক্তি এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিল (যুক্তরাজ্য)।
বুধবার স্মারকলিপিটি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। হাইকমিশনের প্রথম সচিব স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বিন আলী ও সভাপতি হারুন-অর-রশিদ যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন স্মারকলিপিটি।
সরকারের প্রতি ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের সাধারণ মানুষ বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই বলে দাবি করে সংগঠনটি জানায়, বরং সরকার রাজনৈতিক দরকষাকষি ও ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে ব্যস্ত, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে।
শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে শ্রমজীবী শ্রেণি ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হয়রানি এবং দমননীতি চলছে। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও, তাঁদের ন্যায্য দাবি অবহেলিত হচ্ছে।
ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের অভিযোগ, সিলেটে শ্রমিকদের বৈধ সমাবেশে পুলিশ হামলা চালিয়েছে, আইনজীবীর কার্যালয়ে তল্লাশি করেছে এবং অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনসহ ৩৭ শ্রমিকনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। সিলেটজুড়ে প্রতিরাতে পুলিশি অভিযানের কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
অবিলম্বে আলোচনার আহ্বান
সংগঠনটি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।
তাঁদের দাবি, এই উদ্যোগ শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং দেশে গণমানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।