ভাঙা হাত নিয়েই ইতিহাস গড়লেন সাফোনভ: ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে পিএসজির প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা
ফুটবল বিশ্বে এমন গল্প খুব কমই দেখা যায়, যেখানে একজন খেলোয়াড় চরম শারীরিক বিপর্যয়ের মাঝেও দলের নায়ক হয়ে ওঠেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ।
ব্রাজিলের শক্তিশালী ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে বুধবারের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ ছিল অমীমাংসিত। ফলে শিরোপা নির্ধারণ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানেই নিজের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে চারটি শট প্রতিহত করেন সাফোনভ, যার ফলে ২–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক ট্রফি জিতল ফরাসি জায়ান্টরা।
তবে আনন্দের সেই রাতে সাফোনভের জন্য অপেক্ষা করছিল দুঃসংবাদ। জানা যায়, পেনাল্টি শুটআউট চলাকালীনই তার হাতে ফ্র্যাকচার হয়। তবুও অবিশ্বাস্যভাবে শেষ পর্যন্ত গোলপোস্ট আগলে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা তিন থেকে চার সপ্তাহ পর নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বিষয়টি নিয়ে বলেন, শুটআউটের সময় একটি অস্বাভাবিক নড়াচড়ার কারণেই সাফোনভের হাত ভেঙে থাকতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই অবস্থাতেই তিনি শেষ দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন। কোচের মতে, তীব্র অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে তখন ব্যথা অনুভূত হয়নি তার।
এনরিকে আরও জানান, এমন মানসিক দৃঢ়তাই তিনি দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখতে চান—যে কোনো পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। সাফোনভের পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ জেতায়নি, বরং পিএসজির ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ভাঙা হাত নিয়ে শিরোপা জয়—এই গল্প নিঃসন্দেহে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।